মিশরীয় মমির রহস্য ও তৈরির কারণ। Mystery and reason for making Egyptian mummies.


প্রাচীনকালে  মিশরীয়রা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করত যে মৃত্যুর পরেও তাদের আত্মা বেচে থাকে। তাই কীভাবে মৃত্যুর পরেও জীবনকে উপভোগ করা যায় সেই চিন্তায় অস্থির থাকত। ব্যক্তি গুরুত্বের উপর নির্ভর করে গুরুত্ব আরোপ করা হতো এই ব্যাপারে। ব্যাক্তি যত গুরুত্বপূর্ণ হতো কাজের গুরুত্ব ততই বেশি বেড়ে যেত। তাই পরবর্তী  জীবনে আরাম আয়েশের জন্য স্বভাবতই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এর উৎপত্তি হয়ে ছিল প্রাচীন মিশরের ফেরাও রাজ্য থেকে। বর্তমানেও মিশরে ১০ লাখেরও বেশি মমি আছে। 



মৃতের শরীরের উপর ক্যামিক্যাল ব্যবহার করে এবং তার উপর কাপড় পেচিয়ে বছরের পর বছর সংরক্ষন করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় মমি। মমি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রযুক্তি দ্বারা মৃত দেহটিকে প্রাকৃতিক ধ্বংস বা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে রক্ষা করা। মমি শব্দটি মধ্যযুগের  ল্যাটিন  শব্দ মামিয়া থেকে এসেছে। এটি ফারসি ভাষা মামস থেকে আনা হয়েছে। মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল যে মৃত্যুর পরেও তাদের আত্মা জীবিত থাকে। তাই তারা তাদের রাজা বাদশাহদের মৃত্যুর পর তাদের মৃতদেহকে পোড়াতো না বা স্বাভাবিক পদ্ধতিতে কবরও দিত না। যিশুখ্রিস্টের জন্মের প্রায় ২৯০০ বছর আগে তারা ভূ গর্ভস্থ কক্ষে শায়িত অবস্থায় বিশেষ পদ্ধতি অনুসারে মৃত দেহকে কবর দিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মরুভূমির বুকে মমি তৈরী করার মাধ্যমে মৃতদেহকে কবর দিয়ে সংরক্ষন করত। সাধারন মানুষের কবরের সঙ্গে বিশিষ্ট মানুষের কবরের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখা যেত। বিশিষ্ট ব্যাক্তির কবরের উপর পাথর গেথে গেথে পিরামিড তৈরী করে তাদের কবর রক্ষা করা হতো।



 মৃতদেহকে অবিকৃত রাখতে মিশরীয়রা এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করত। একেই বলে মমি সংরক্ষনের পদ্ধতি। প্রথম প্রথম কিছু ত্রুটি থাকত বলে মৃত দেহ বেশিদিন অরক্ষিত থাকত না। তাই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মৃতদেহ মমি তৈরীর পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটিয়ে মৃতদেহকে দীর্ঘ দিন অবিকৃত রাখা ব্যবস্থা করা হতো। মমি তৈরীর পদ্ধতিকে মোটামুটি দীর্ঘ মেয়াদিই বলা চলে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুগন্ধ ক্যামিক্যাল দিয়ে একটি দেহ মমি করতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ দিন লেগে যেত। এবং মমি তৈরীর সময় তাদের ধর্মগুরু এবং বিশেষজ্ঞরাও থাকত। মমি তৈরীর সময় মৃত দেহটিকে বিভিন্ন ধরনের বডি লোসন, তেল, ভেষজ উদ্ভিদ দ্বারা মালিশ করা হতো। তারপর কাপড় দিয়ে পুরো দেহটিকে কাপড় দ্বারা প্যাচানো হতো। কাপড় প্যাচানোর পর মৃত দেহের আকৃতি অনুসারে একটি কাঠের বাক্স বানানো হতো।  এরপর কাঠের বাক্সটিকে রং করানো হতো। এবং মৃত ব্যাক্তির আকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। তারপর ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে এই কাঠের বাক্সের উপর ধর্মীয় শব্দ লেখা হতো। তারপর ধার্মিক আনুষ্ঠানিক ভাবে এই মমিটিকে সম্মান দেখিয়ে পিরামিডের ভেতর একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রেখে দেওয়া হতো। 



মিশরে এখন পর্যন্ত তাদের প্রিয়জনদের মমি তৈরী করা হয়। অনেক মিউজিয়ামে গেলে এখনো আমারা অনেক মমি দেখতে পারব স্বচোক্ষে। মমি সম্পর্কে আপনাদের কোনো মতামত থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্য